৺রী শ্রীশ্রী ভবানী মাতাহি কেবলম্

শক্তিপীঠ ভবানীপুর – হিন্দু সম্প্রদায়ের আন্তর্জাতিক তীর্থস্থান

জয় মা কালী।। জয় বাবা শিব।। ওঁ সর্বমঙ্গল মঙ্গল্য়ে শিবে সর্বার্থ সাধিকে শরণ্য়ে ত্র্য়ম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোহস্তুতে। ওঁ সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনী। গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণী নমোহস্তুতে। জয়ন্তী মঙ্গলাকালী ভদ্রাকালী কপালীনি দুর্গাশিবা ক্ষমাধাত্রী স্বহাস্বধা নমোহস্তুতে। ওঁ শরণাগত দীনার্ত পরিত্রাণ পরায়ণে সর্বস্য়ার্তিহরে দেবী নারায়ণী নমোহস্তুতে।। ওঁ করালবদনাং ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাম্। কালিকাং দক্ষিণাং দিব্য়াং মুন্ডমালা বিভূষিতাম্। সদ্য়শ্ছিন্নশিরঃখড়্গ বামাধোর্দ্ধোকরাম্বুজাম্। অভয়ং বরদঞ্চৈব দক্ষিণাধোর্দ্ধোপাণিকাম্। মহামেঘপ্রভাং শ্য়ামাং তথা চৈব দিগম্বরীম্। কন্ঠাবসক্তমুন্ডালী গলদ্রুধিরচর্চ্চিতাম। কর্ণাবতংসতানীত শবযুগ্মভয়ানকাম্। ঘোরদংষ্ট্রাং করালাস্য়াং পীনোন্নতপয়োধরাম্। শবানাং করসঙ্ঘাতৈঃ কৃতকাঞ্চীং হসম্মুখীম্। সৃক্কদ্বয়গলদ্রক্তধারাবিস্ফুরিতাম্। ঘোররাবাং মহারৌদ্রীং শ্মশানালয়বাসিনীম্। বালার্কমন্ডলাকার লোচন ত্রিতয়ান্বিতাম্। দন্তুরাং দক্ষিণব্য়াপিমুক্তালম্বিকচোর্চ্চয়াম্। শবরুপ-মহাদেব হৃদয়োপরিসংস্থিতাম্। শিবাভির্ঘোররাবাভিশ্চতুর্দিক্ষু সমন্বিতাম্। মহাকালেন চ সমং বিপরীতরতাতুরাম্। সুখপ্রসন্নবদনাং স্মেরাননসরোরুহাম্। এবং সঞ্চিন্তয়েৎ কালীং ধর্মকামার্থসিদ্ধিদাম্।। যে দেবী সকল জীবের মধ্য়ে থাকিয়া বিষ্ণুমায়া বলিয়া কথিত হন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সকল জীবের মধ্য়ে চেতনা বলিয়া কথিতা, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সকল জীবের মধ্য়ে বুদ্ধিরূপে অবস্থান করিতেছেন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সকল প্রাণীর মধ্য়ে নিদ্রারূপে অবস্থান করিতেছেন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সর্ব্বজীবের মধ্য়ে ক্ষুধারূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সর্ব্বজীবে ছায়ারূপে বর্তমান রহিয়াছেন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সর্ব্বজীবে শক্তিরূপে বিরাজ করিতেছেন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সকল জীবের মধ্য়ে তৃষ্ণারূপে বিরাজ করিতেছেন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সকল জীবের মধ্য়ে ক্ষমারূপে বিরাজ করিতেছেন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সকল জীবের মধ্য়ে জাতিরূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সকল জীবের মধ্য়ে লজ্জারূপে বিরাজ করিতেছেন, সেই দেবীকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সকল জীবের মধ্য়ে শান্তিরূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সমস্ত জীবের মধ্য়ে শ্রদ্ধারূপে বিরাজ করিতেছেন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সর্ব্বজীবে কান্তিরূপে বিরাজ করিতেছেন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সমস্ত জীবের মধ্য়ে সম্পদরূপে বিরাজ করিতেছেন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সমস্ত জীবের জীবিকারূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সর্ব্বজীবে স্মরণশক্তিরূপিণী, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সমস্ত জীবের হৃদয়ে দয়ারূপিণী, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সর্ব্বজীবের মধ্য়ে তুষ্টিরূপে বিরাজ করিতেছেন, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সমস্ত জীবের জননীরূপা, তাঁহাকে বার বার নমস্কার।। যে দেবী সমস্ত জীবের হৃদয়ে ভ্রান্তিস্বরূপিণী, সেই দেবীকে বার বার নমস্কার।।

  • ১। হিঙ্গুলা বা হিঙ্গুলোটি - পাকিস্থানের বন্দর শহর করাচির উত্তর পূর্বদিকে মরুভূমির ওপর দিয়ে ১২৮ কিলোমিটার দীর্ঘপথ। এখানে সতীর ব্রহ্মরন্ধ্র পতিত হয়। পাহড়ের মাথায় অবস্থিত কালীমন্দির। এই মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন কোট্টারী। ভৈরব ভীমলোচন। অনেকে এই দেবীকে বলেন "নানী" বা "মহামায়ী"।

  • ২। করবীর বা শর্করার - পাকিস্থানে করাচী থেকে সুক্কর ষ্টেশনের কিছুদূরে অবস্থিত। এখানে পতিত হয় সতীর ত্রিনেত্র। দেবী হলেন মহিষমর্দ্দিনী, ক্রোধীশ ভৈরব।

  • ৩। সুগন্ধা - বাংলাদেশের বরিশাল শহর থেকে ১৩ মাইল দূরে শিকারপুরে সোন্ধ নদীর ধারে সুগন্ধা। এখানে পতিত হয় সতীর নাসিকা। দেবীর নাম সুনন্দা। ভৈরব হলেন ত্র্য়ম্বক।

  • ৪। অমরনাথ - কাশ্মীরের অমরনাথ গুহায় এই মন্দির। গুহার মধ্য়ে তুষারলিঙ্গের ডানদিকে যে ছোট ডিমের মতো তুষারপিন্ড তারই নাম পার্বতী বা মহামায়া। এখানে পতিত হয় সতীর কন্ঠ। দেবী এখানে মহামায়া। ভৈরব ত্রিসন্ধ্য়েশ্বর।

  • ৫। জ্বালামুখী - পাঠানকোট থেকে জ্বালামুখী রোড ষ্টেশন। সেখান থেকে ১৩ মাইল দূরে পাহাড়ের উপরে জঙ্গলের মধ্য়ে ভৈরব মন্দির। এখানে কোন মূর্তি নেই। পাথরের ফাটল দিয়ে আসছে অগ্নিশিখা। এই অগ্নিশিখার মধ্য়েই জ্য়োতিরুপে মায়ের মূর্তি। শিখা সাতটি। এর মধ্য়ে একটিরই পূজা হয়। এখানে পতিত হয় সতীর জিহ্বা। দেবীর নাম সিদ্ধিদা। ভৈরবী উন্মত্ত।

  • ৬। জলন্ধর - পান্জাবের জলন্ধর ক্য়ান্টনমেন্ট ষ্টেশনে নেমে যেতে হয় জালন্ধর পীঠে। সেখানে আছে কালভৈরবের মন্দির ও মহাবীরের মন্দির। এখানে বিন্ধ্য়েশ্বরীর মন্দিরও আছে। এখানে পতিত হয় সতীর এক স্তন। দেবীর নাম ত্রিপুরমালিনী। ভৈরব ভীষণ।

  • ৭। বৈদ্য়নাথ - বিহারে বৈদ্য়নাথ ধাম বা দেওঘরে পড়েছিল সতীর হৃদয়। রাবণ যেখানে শিবকে এনে রেখেছিলেন সেখানেই পতিত হয় দেবীর হৃদয়। সেজন্য় বৈদ্য়নাথ শুধু শৈবপীঠ নয়, শক্তিপীঠও। দেবীর নাম জয়দুর্গা। ভৈরব বৈদ্য়নাথ।

  • ৮। নেপাল - এখানে পতিত হয় সতীর জানুদ্বয়। নেপালে পশুপতিনাথ মন্দিরের পাশে গুজ্য়েশ্বরী মন্দির। নেপালের কোন্ স্থানে সতীর এই অঙ্গ পড়েছিল তার সঠিক কোন নির্দেশ না থাকায় একটি বিভ্রান্তি রয়েই গেছে। এখানে দেবী মহাশিরা ভৈরব কপালী।

  • ৯। মানস - তিব্বতের অন্তর্গত কৈলাশ পর্বতের পাদদেশে মানস সরোবর। এখানে একখন্ড শিলায় দেবী অবস্থিতা। কিন্তু এখানে দেবীর সঠিক কোথায় অবস্থান তা নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মানস সরোবরকেই একান্নপীঠের অন্য়তম বলে উল্লেখ করেছেন। এখানে পতিত হয় দেবীর দক্ষিণহস্ত। এখানে দেবী দাক্ষায়ণী। ভৈরব হলেন অমর।

  • ১০। বিরজাক্ষেত্র (উৎকল) - পুরীর মন্দিরের চত্বরেই এই পীঠস্থান অবস্থিত। এখানে পতিত হয় সতীর নাভি। দেবী এখানে বিমলা। ভৈরব হলেন জগন্নাথ। জগন্নাথ মন্দিরের দ্বিতীয় প্রাচীর পার হলে এই মন্দির দেখা যাবে।

  • ১১। গন্ডকী - এই পীঠস্থানটির সঠিক স্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক আছে। কেউ বলেন, শালগ্রামের কাছে গন্ডক নদীর উৎপত্তিস্থলে এই পীঠস্থান। আবার কেউ কেউ বলেন, এটা নেপালে মুক্তিনাথ তীর্থ। নেপাল তিব্বত সীমান্তে কালী গন্ডকীর উৎস মাসতং-ই এই পীঠস্থান। এখানে আছে চন্ড নামে অনাদি লিঙ্গ। নদীর উৎসমুখের কুন্ডে দেবীর অবস্থান। কোন মূর্তি নাই। শিলাখন্ডে পূজা হয়। এখানে পতিত হয় সতীর গন্ডদেশ। দেবী হলেন গন্ডকী চন্ডী। ভৈরব চক্রপাণি।

  • ১২। বহুলা - পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলার কাটোয়া থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে কেতুগ্রামে অজয় নদীর তীরে এই পীঠস্থান অবস্থিত। এখানে পতিত হয় দেবীর বাম বাহু। দেবীর নাম বহুলা। ভৈরব ভীরুক।

  • ১৩। উজ্জয়িনী বা উজানী - বর্ধমান জেলার গুসকরা ষ্টেশন হইতে ১৬ কিলোমিটার দূরে উজানী বা কোগ্রাম এখানে পতিত হয় সতীর কনুই। দেবী হলেন মঙ্গলচন্ডিকা। ভৈরব কপিলেশ্বর।

  • ১৪। চট্টল বা চট্টগ্রাম - বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড ষ্টেশনের কাছে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপর ভবানীর মন্দির। এখানে মন্দিরের কোণে যে অগ্নিশিখা জ্বলছে অনেকেই বলেন ইনিই দেবী ভবানী। এখানে পতিত হয় সতীর দক্ষিণ বাহু। দেবী হলেন ভবানী। ভৈরব চন্দ্রশেখর।

  • ১৫। ত্রিপুরা - ত্রিপুরা রাজ্য়ের উদয়পুর শহরের অদূরে মাতাবাড়িতে অনুচ্চ পাহাড়ী টিলার উপর অবস্থিত এই পীঠস্থান। এখানে পতিত হয় দেবীর দক্ষিণপাদ। দেবীর নাম ত্রিপুরসুন্দরী। ভৈরব হলেন ত্রিপুরেশ।

  • ১৬। ত্রিস্রোতা - পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বোদা অঞ্চলে শালবাড়ী গ্রামে তিস্তা নদীর তীরে এই পীঠস্থান অবস্থিত। এখানে পতিত হয় দেবীর বামপাদ। দেবীর নাম ভ্রামরী। ভৈরব ঈশ্বর।

  • ১৭। কামগিরি বা কামরুপ কামাখ্য়া - আসামের গুয়াহাটির নিকট নীলাচল পাহাড়ে কামাখ্য়া মন্দির। এখানে কীলকূট পর্বতের উপর যেখানে দেবীর যোনিদেশ পড়েছিল তার নাম কুব্জিকা। যোনীদেশ পড়েই হয়েছে প্রস্তুরীভূত। এই প্রস্তরই দেবী কামাখ্য়া। দেবীর কোন মূর্তি নাই। দেবীর অধিষ্ঠান যোনিপীঠ গহ্বরে। লাল শালুতে ঢাকা। এখানে দেবী কামাখ্য়া। ভৈরব উমানন্দ। কথিত আছে কেউ যদি এই শিলা স্পর্শ করে তবে দেবত্ব লাভ হয়।

  • ১৮। যুগাদ্য়া বা ক্ষীর গ্রাম - বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাছে ক্ষীরগ্রাম। এখানে ক্ষীরদীঘির জলে বিগ্রহ ডোবানো থাকে সারাবছর। বৈশাখ সংক্রান্তিতে তুলে এনে পূজা ও মহামেলা হয়। এখানে পতিত হয় দেবীর ডান পায়ের অঙ্গুষ্ঠ। দেবীর নাম যুগাদ্য়া বা যোগদ্য়া। ভৈরব ক্ষীরগুণ্ডক।

  • ১৯। কালীঘাট - কলিকাতার কালীঘাটে অবস্থিত এই মন্দির। এই মন্দিরের কালী খুবই জাগ্রত। ভাদ্র, পৌষ ও চৈত্র মাসে দেবী দর্শন বিশেষ পুণ্য়জনক বলে বিবেচিত হয়। বিগ্রহের মুখ কালো পাথরে তৈরী। জিব, দাঁত, হাত ও মাথার মুকুট সোনার। গলার মুন্ডমালা সোনা ও রুপার তৈরী। এখানে পতিত হয় দেবীর দক্ষিণ পাদের ৪টি অঙ্গুলী। দেবী হলেন কালিকা। ভৈরব নকুলীশ। প্রতি বৎসর স্নানযাত্রার দিন রুদ্ধদ্বার কক্ষে চোখ বাঁধা অবস্থায় মূর্তিটিকে স্নান করান হয়।

  • ২০। প্রয়াগ - উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদের প্রয়াগ সঙ্গমের নিকট অবস্থিত এই পীঠস্থান। এখানে পতিত হয় দেবীর হাতের অঙ্গুলি। দেবীর নাম ললিতা। ভৈরব ভব।

  • ২১। জয়ন্তী - বাংলাদেশের শ্রীহট্ট জেলার অন্তর্গত জয়ন্তীয়া পরগণায় খাসিয়া পাহাড়ে কলজোর বাউরভোগ গ্রামে অবস্থিত এই পীঠস্থান। এই পীঠস্থান নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্য়ে বিতর্ক আছে। এখানে পতিত হয় সতীর বামজঙ্ঘা। দেবী হলেন জয়ন্তী। ভৈরব ক্রমদীশ্বর।

  • ২২। কিরীট বা কিরীটকোণা - মুর্শিদাবাদ জেলায় লালবাগ কোর্ট রোড ষ্টেশন হইতে প্রায় ৩ মাইল পশ্চিমে বটনগর গ্রামে কিরীটকোণা। এখানে দেবীর যে অঙ্গ পতিত হয় তার নাম কিরীট। দেবী হলেন বিমলা বা কিরীটশ্বরী। ভৈরব হলেন সংবর্ত। পৌষ মাসে প্রতি মঙ্গলবার এখানে মেলা বসে।

  • ২৩। বারাণসী - উত্তর প্রদেশে বারাণসীর গঙ্গার ধারে মণিকর্ণিকা ঘাটে এই পীঠস্থান অবস্থিত। এখানে পতিত হয় সতীর কর্ণকুন্ডল। দেবী হলেন বিশালাক্ষী। ভৈরব হলেন কাল।

  • ২৪। কন্য়াশ্রম - তামিলনাড়ুতে কুমারী মন্দিরের ভিতরে ভদ্রকালী মন্দির। কিন্তু অন্য় মতে সম্ভবতঃ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কুমারীকুন্ডে এই পীঠস্থান অবস্থিত। এখানে পতিত হয় দেবীর পৃষ্ঠদেশ। দেবী হলেন সর্বানী। ভৈরব নিমিষ।

  • ২৫। কুরুক্ষেত্র - হরিয়ানায় অবস্থিত ছোট্ট একটা জীর্ণ মন্দিরের মধ্য়ে লাল কাপড়ে ঢাকা একখন্ড শিলায় অবস্থান করছেন দেবী। এখানে পতিত হয় দেবীর গুল্ফ বা গোঁড়ালী। দেবী হলেন সাবিত্রী। ভৈরব স্থানু।

  • ২৬। মণিবেদ বা মণিবেদিক - রাজস্থানের আজমীড়ে পুষ্করতীর্থের নিকট গায়ত্রী পর্বতে এই পীঠস্থান অবস্থিত। এখানে পতিত হয় দেবীর মনিবন্ধ অর্থাৎ কব্জি। দেবী হলেন গায়ত্রী। ভৈরব সর্বানন্দ।

  • ২৭। শ্রীশৈল বা শ্রীহট্ট - বাংলাদেশের শ্রীহট্ট শহরে গোত্রটিকর জৈনপুরে এই পীঠস্থান অবস্থিত। সুরমা নদীর ধারে এক মন্দিরে দেবীর অবস্থান। এখানে পতিত হয় দেবীর গ্রীবা। দেবীর নাম মহালক্ষ্মী। ভৈরব সম্বরানন্দ।

  • ২৮। কাঞ্চী - বোলপুর ষ্টেশন হইতে উত্তরপূর্ব দিকে ৪ মাইল দূরে কোপাই নদীর তীরে অবস্থিত এই পীঠস্থান। এই স্থান কঙ্কালীতলা নামেও পরিচিত। মন্দিরের পাশে আছে একটি কুন্ড। সেখানেই মূল দেবী অবস্থিত। এখানে পতিত হয় দেবীর কঙ্কাল। দেবী হলেন দেবগর্ভা। ভৈরব হলেন রুরু।

  • ২৯। কালমাধব - মধ্য়প্রদেশের অমরকন্টকের নিকটবর্তী পাহাড়ের এক গুহায় শোন নদীর তীরে এই মহাপীঠ। কথিত আছে এই স্থান দর্শন মাত্রেই হয় মন্ত্রসিদ্ধি। এই স্থান নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক আছে। এখানে পতিত হয় দেবীর দক্ষিণ নিতম্ব। দেবী হলেন কালী। ভৈরব অসিতাঙ্গ।

  • ৩০। শোন বা শৈল - মধ্য়প্রদেশের অমরকন্টক তীর্থে নর্মদা নদীর উৎসস্থলে এই মহাশক্তি পীঠ অবস্থিত। এখানে পতিত হয় দেবীর বাম নিতম্ব। দেবী হলেন নর্মদা। ভৈরব ভদ্রসেন।

  • ৩১। রামগিরি - উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি মানিকপুর রেলপথে চিত্রকুট ষ্টেশন। সেখান হইতে ২ মাইল দূরে রামগিরিতে চিত্রকূট তীর্থ। এখানে পতিত হয় দেবীর দক্ষিণ স্তন। দেবী হলেন শিবানী। ভৈরব হলেন চন্ড।

  • ৩২। বৃন্দাবন - মথুরারোডে বৃন্দাবনের কাছে যমুনার তীরে ভূতেশ্বর মহাদেবের মন্দির। এখানে পতিত হয় সতীর কেশজাল। দেবী হলেন উমা। ভৈরব ভূতেশ।

  • ৩৩। শুচি বা অনল - কন্য়াকুমারী ত্রিবান্দ্রম পথে ১১ কি.মি. দূরে শিবমন্দির অবস্থিত। এখানে পতিত হয় দেবীর উর্দ্ধদন্ত পংক্তি। দেবী হলেন নারায়ণী। ভৈরব সংহার।

  • ৩৪। পঞ্চসাগর - এই স্থানের সঠিক অবস্থান জানা নেই। এখানে পতিত হয় দেবীর অধোদন্ত পংক্তি। দেবী হলেন বারাহী। ভৈরব মহারুদ্র।

  • ৩৫। করতোয়াতট - বাংলাদেশের বগুড়া জেলার ভবানীপুর গ্রামে এই পীঠস্থান অবস্থিত। এখানে পতিত হয় দেবীর তল্প (পৃষ্ঠদেশের মাংস)। দেবীর দেহাংশ শিলীভূত। কোন মূর্তি নাই। তবে ভক্তজনের জন্য় আছে এক সোনার তৈরী কালীমূর্তি। দেবী হলেন অপর্ণা। ভৈরব বামেশ।

  • ৩৬। শ্রীপর্বত - কাশ্মীরের অন্তর্গত লাডাকের নিকট শ্রীপর্বত অবস্থিত। ভিন্ন মতে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরে শ্রীপর্বতে শ্রীশৈলম। এখানে পতিত হয় দেবীর দক্ষিণ পায়ের গুল্ফ ও দক্ষিণ কর্ণ। দেবী হলেন শ্রীসুন্দরী। ভৈরব সুন্দরানন্দ।

  • ৩৭। বিভাষ - পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার তমলুকে অবস্থিত এই পীঠস্থান। উঁচু একটি ভিতের উপর মন্দির প্রতিষ্ঠিত। এখানে দেবী মৎস্য়প্রিয়া। নিত্য় ভোগে চাই মৎস্য়। এখানে পতিত হয় দেবীর বাম গুল্ফ। দেবী হলেন ভীমরুপা বা কপালিনী। ভৈরব সর্বানন্দ বা কপালী।

  • ৩৮। প্রভাস - কাথিয়াওয়ারে সোমনাথ মন্দিরের নিকটে ভেরাবল ষ্টেশন থেকে ৪ কি.মি. দূরে প্রভাসপত্তনে তিনটি নদীর সঙ্গমস্থলে এই পীঠস্থান অবস্থিত। এখানে পতিত হয় দেবীর উদর। দেবী হলেন চন্দ্রভাগা। ভৈরব বক্রতুন্ড।

  • ৩৯। ভৈরব পর্বত - মধ্য়প্রদেশের উজ্জয়িনী শহরের অদূরে শিপ্রা নদী তীরে এই ভৈরব পর্বত। এই পর্বতের উপরেই দেবীর পীঠস্থান। এখানে পতিত হয় দেবীর উর্দ্ধওষ্ঠ। দেবী হলেন অবন্তী। ভৈরব লম্বকর্ণ।

  • ৪০। জনস্থানে বা জলেস্থলে - মহারাষ্ট্রের নাসিকের নিকট গোদাবরী উপত্য়কায় অবস্থিত। এখানে পতিত হয় সতীর চিবুক। মতান্তরে জলে ও স্থলে মায়ের চিবুক পড়ে। দেবী হলেন ভ্রামরী। ভৈরব বিকৃতাক্ষ।

  • ৪১। গোদাবরী তট - অন্ধ্রপ্রদেশের রাজমহেন্দ্রী জেলায় অবস্থিত। এখানে গোদাবরী নদীর তীরে স্থাপিত আছে পীঠস্থান কোটিলিঙ্গেশ্বরের মন্দির। এখানে পতিত হয় সতীর গন্ড। দেবী হলেন বিশ্বেশী। ভৈরব দন্ডপাণি।

  • ৪২। রত্নাবলী - সঠিক স্থান জানা নেই। তবে অনেকের মতে হুগলী জেলার রত্নাকর নদীর ধারে খানাকুল কৃষ্ণনগরেই এই পীঠস্থান। এখানে পতিত হয় দেবীর দক্ষিণ স্কন্দ। দেবী হলেন কুমারী। ভৈরব শিব।

  • ৪৩। মিথিলা - নেপালের তরাই অঞ্চলের জনকপুরে এই পীঠস্থান। তবে সঠিক স্থান জানা যায়নি। এখানে পতিত হয় দেবীর বামস্কন্দ। দেবী হলেন উমা। ভৈরব মহোদর।

  • ৪৪। নলহাটি - বীরভূম জেলার নলহাটি ষ্টেশন থেকে কিছু দূরে অনুচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় ললাটেশ্বরী দেবীর মন্দির। এখানে পতিত হয় দেবীর নলা। দেবী হলেন কালী। ভৈরব যোগীশ।

  • ৪৫। কর্ণাট - সঠিক অবস্থান জানা নেই। এখানে পতিত হয় দেবীর কর্ণদ্বয়। দেবী হলেন জয়দুর্গা। ভৈরব অভীক।

  • ৪৬। বক্রেশ্বর - পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার দুরবাজপূর ষ্টেশনের কিছুদূরে শ্মশানভূমিতে অবস্থিত এই পীঠস্থান। এখানে পতিত হয় দেবীর মন। দেবী হলেন মহিষমর্দ্দিনী। ভৈরব বক্রনাথ।

  • ৪৭। যশোর - বাংলাদেশের খুলনা জেলার ঈশ্বরীপুরে অবস্থিত। এখানে পতিত হয় দেবীর পাণিপদ্ম। দেবী হলেন যশোরেশ্বরী। ভৈবর চন্ড।

  • ৪৮। অট্টহাম - বীরভূম জেলার লাভপুর ষ্টেশন হইতে ২ কি.মি. দূরে অবস্থিত এই পীঠস্থান। ভিন্ন মতে এই পীঠস্থান অবস্থিত বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে। এখানে পতিত হয় দেবীর ওষ্ঠ। দেবী হলেন ফুল্লরা। ভৈরব বিশ্বেশ।

  • ৪৯। নন্দীপুর - বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া রেল ষ্টেশনের পাশে পাঁচিল ঘেরা জায়গায় একটা বটগাছের নীচে এই দেবীপীঠ অবস্থিত। এখানে পতিত হয় সতীর হার। দেবী হলেন নন্দিনী। ভৈরব নন্দিকেশ্বর।

  • ৫০। লঙ্কা - এর সঠিক অবস্থান জানা নেই। রাক্ষসেশ্বর নামে ভৈরবের পরিচয় দেখে মনে হয় রাক্ষসরাজ রাবণের লঙ্কাতেই (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) এই পীঠস্থান হতে পারে। এখানে পতিত হয় দেবীর নূপুর। দেবী হলেন ইন্দ্রাক্ষী। ভৈরব রাক্ষসেশ্বর।

  • ৫১। বিরাট - এই স্থান সম্বন্ধে সঠিকভাবে কিছু জানা যায় নি। তবে মহাভারতে উল্লিখিত বিরাটপুরী নাম হতেই এই নামের উৎপত্তি মনে হয় বিরাট দেশ রাজপুতানার জয়পুর, আলোয়ার ও ভরতপুর অঞ্চলে অবস্থিত। অনেকের অনুমান এই অঞ্চল উত্তরবঙ্গের কোথাও হতে পারে। এখানে পতিত হয় দেবীর উত্তর পাদাঙ্গুলি। দেবী হলেন অম্বিকা। ভৈরব অমৃতাক্ষ।

তথ্য়সূত্র: শ্রী মদন গুপ্তের ফুল পঞ্জিকা ১৪২৪

ওয়েবসাইটস্বত্ব - ভবানীপুর মন্দির সংস্কার, উন্নয়ন ও পরিচালনা কমিটি ১৪২৬